মোঃ মিজানুর রহমান চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা
চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলার তেলিপাড়া গ্রামের দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মুখলেসুর রহমানের সংগ্রামী জীবনের কাহিনি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়েছে ফ্রেন্ডস্ ফাউন্ডেশন ফর হিউম্যানিটি-চৌহালী, সিরাজগঞ্জ। সংগঠনটির দুই প্রবাসী সদস্যের পক্ষ থেকে তাকে ২০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকেলে তেলিপাড়া গ্রামে মুখলেসুর রহমানের নিজ বাড়িতে গিয়ে এ সহায়তার অর্থ তুলে দেন ভোলাহাট উপজেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ও যুবনেতা মো. মিনহাজুল ইসলাম।৫৬ বছর বয়সী মুখলেসুর রহমান জন্ম থেকেই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। জীবনের প্রতিটি ধাপে নানা প্রতিকূলতা ও সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হলেও তিনি কখনো হাল ছাড়েননি। জীবিকার তাগিদে প্রতিদিন প্রায় দুই কিলোমিটার পথ হেঁটে স্থানীয় একটি কাঠকাটা মিলে কাজ করেন। সামান্য উপার্জন দিয়েই তিনি নিজের পাশাপাশি ৭০ বছর বয়সী বৃদ্ধ মা রুলি বেগমের ভরণ-পোষণের দায়িত্ব পালন করে আসছেন।সম্প্রতি মা-ছেলের এই মানবিক ও সংগ্রামী জীবনের গল্প বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক সাড়া ফেলে। এরপর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত এবং প্রবাসে থাকা অনেক হৃদয়বান মানুষ তাদের পাশে দাঁড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন। সেই ধারাবাহিকতায় ফ্রেন্ডস্ ফাউন্ডেশন ফর হিউম্যানিটি-চৌহালী, সিরাজগঞ্জের দুই প্রবাসী সদস্যের পক্ষ থেকে এই আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।সহায়তা পেয়ে আবেগাপ্লুত মুখলেসুর রহমান বলেন, “আমি কখনো ভাবিনি এত মানুষ আমার খোঁজ নেবে। যারা আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন, আল্লাহ যেন তাদের উত্তম প্রতিদান দেন।”বৃদ্ধ মা রুলি বেগমও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “মানুষের ভালোবাসা ও সহযোগিতা আমাদের নতুন করে বাঁচার আশা জাগিয়েছে। আল্লাহ সবাইকে ভালো রাখুন।”এ সময় মো. মিনহাজুল ইসলাম বলেন, মানবিক সংকটে থাকা মানুষের পাশে দাঁড়ানো সামাজিক ও নৈতিক দায়িত্ব। গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষদের এগিয়ে আসার যে সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।স্থানীয়রা জানান, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতা ও নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও মুখলেসুর রহমান বছরের পর বছর কঠোর পরিশ্রম করে নিজের ও মায়ের জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। তার আত্মমর্যাদা, অধ্যবসায় ও সংগ্রামী জীবন সমাজের জন্য একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। তারা আশা করেন, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং সমাজের বিত্তবান মানুষ তার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে দীর্ঘমেয়াদি সহায়তার উদ্যোগ নেবেন, যাতে মুখলেসুর রহমান ও তার মায়ের জীবন আরও স্বাচ্ছন্দ্যময় হয়ে ওঠে।

